মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
সম্প্রতি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যা এখনো চলছে। এতে মুসলিমদের ঘর-বাড়ীতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে মসজিদের ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে মধ্য রাতে। এরপর সহিংসতার মাত্রা আরও বেড়ে যায। এতে অনেক মুসলিম নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। এবং অনেককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অব্যহত হামলায় টিকতে না পেয়ে মুসলিমরা দলে দলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার শত শত মুসলিমদের বাড়ী-ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে। এই সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
জানা যায়, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের নূহতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয়েছিল ৩১ জুলাই। সেখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সোহনাতেও ছড়িয়েছিল সেই দাঙ্গার উত্তেজনা। ভাঙচুর চালানো হয় একটি মসজিদে। মুসলমানদের বাঁচাতে সে দিন এগিয়ে এসেছিলেন প্রতিবেশী শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ।
সোহনার জামে মসজিদের ইমাম কলিম কাশফি যখন নূহ-র ঘটনা জেনেছিলেন, তারপর থেকেই তার মনে একটা আশঙ্কা হচ্ছিলই যে তার এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কিন্তু তিনি নিজের মনকে এই বলে প্রবোধ দিয়েছিলেন যে তার পরিবার কয়েক দশক ধরে যে এলাকায় বাস করছে, বা বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে যখন দেশজুড়ে দাঙ্গা হচ্ছিল, তখনও তার জামে মসজিদের কোনো ক্ষতি হয়নি। এবারেও কোনো হামলা হবে না বলেই ভেবেছিলেন কলিম কাশফি।
তবে আগের রাতেই গুরগাঁও শহরের ৫৭ নং সেক্টরে একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে সেখানকার নায়েব ইমামকে হত্যা করেছিল দাঙ্গাকারীরা। তাই স্থানীয়রা শাহী জামে মসজিদের ইমাম কলিম কাশফিকে সাবধান করেছিলেন।
শান্তি কমিটির বৈঠক, তাও শুরু অশান্তি
নূহ-র দাঙ্গার পরের দিন সোহনায় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতা আর পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে একটা শান্তি কমিটির বৈঠক হয়। শহরের সব সম্প্রদায় একসঙ্গে থাকবে, এই সিদ্ধান্তও হয়।
বৈঠকের আগে অবশ্য স্থানীয় পুর প্রতিনিধির স্বামী গুরবচন সিং তার প্রতিবেশী কাশফিকে সতর্ক করেছিলেন এবং পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে তিনি কোনো নিরাপদ জায়গায় চলে যান।
তবে বৈঠকের পরে সিংয়ের মত বদলায়, তিনি কলিম কাশফিকে বলেছিলেন, “এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে”।
আলাউদ্দিন খিলজির নির্দেশে মসজিদ নির্মাণ
শাহী মসজিদের একটি অংশে ইমাম ও তার ভাইদের পরিবার বসবাস করে। নূহ্-এর ঘটনার পরে মসজিদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কলিম কাশফি বলেন, “প্রশাসন এবং আশেপাশের লোকজন আমাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিল। পুলিশও হাজির ছিল, তাই ভয়ের মধ্যেও আমরা পরিবারসহ এখানেই থেকেছি।”
সোহনায় মুসলমানদের সংখ্যা সামান্য, আর শাহী জামে মসজিদের আশেপাশে মাত্র কয়েক ঘর মুসলমানের বসবাস। ইমামের যৌথ পরিবারে রয়েছে প্রায় ৪০ জন সদস্য।
শাহী জামে মসজিদের সঠিক ইতিহাস পাওয়া না গেলেও স্থাপনাটি দেখে মনে হয় এই মসজিদটি কয়েক শতাব্দী পুরনো।
ইমাম কলিম কাশফির মতে, এই মসজিদটি আলাউদ্দিন খিলজির নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। তিনটি বড় গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি একটু উঁচু জমিতে নির্মিত।
এর একপাশে বারোটি স্তম্ভ বিশিষ্ট একটি বিশাল গম্বুজ এবং এর সংলগ্ন একটি মাজারের মতো ভবন যেখানে ইমাম ও তার পরিবারের সদস্যরা এখন বসবাস করছেন।